LOADING

Type to search

কৃষক নজরুলকে জাতীয়পরিচয় পত্রে কেন মৃত দেখানো হলো

যশোর

কৃষক নজরুলকে জাতীয়পরিচয় পত্রে কেন মৃত দেখানো হলো

Share

ডেক্স রিপোট: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের শিলিল পাড়ার নজরুল ইসলাম জীবিত থাকলেও সরকারী কাগজে তিনি মৃত। গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিস তাকে মৃত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে তার সমস্ত তথ্য মুছে দিয়েছে। তবে এ তথ্য কিভাবে মুছলো বা তাকে কেন মৃত দেখানো হল তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন আফিস।

নজরুল ইসলাম তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের শিলিল পাড়ার মৃত দিদার শিলিলের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৫৭১৪৭৯*****৯৪।

নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে জানতে পারেন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তিনি মৃত। তাই ভোটার তালিকা থেকে তার নামসহ সকল তথ্য অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে নির্বাচন অফিসে গেলে ভোটার তালিকায় নাম নেই বলে নির্বাচন অফিস তা নিশ্চিত করে। পরে এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যায়ন নিয়ে তালিকা ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়ার জন্য গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়া কিংবা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ওয়েবসাইট থেকে তার নামসহ সকল তথ্য বাদ দেয়া হয়েছে।

তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নজরুল ইসলামের পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে ৯ সেপ্টেম্বর একটি প্রত্যায়ন দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার(৮ সেপ্টেম্বর) গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্মার্টকার্ড নিতে গিয়ে আকসেদ আলী নামের এক কৃষককে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন গাংনী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন।

কৃষক আকসেদ আলী জানান, তিনি স্মার্টকার্ড নেওয়ার জন্য কিছুদিন আগে নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলেন। সে সময় করোনার অজুহাত দেখিয়ে কয়েকদিন পরে যেতে বলেন নির্বাচন অফিসের লোকজন। পরে গত মঙ্গলবার তিনি আবার স্মার্টকার্ড নিতে নির্বাচন অফিসে যান। স্মার্টকার্ড নেওয়ার আবেদনের বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীন তার সহকর্মীদের নির্দেশ দেনয়ে তাকে ধরে বেঁধে রাখতে। কৃষক আকছেদ বলেন, আমি চোর না ডাকাত আমাকে ধরে বেঁধে রাখবে? দেশে কি কোন বিচার নেই।

ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কবির উদ্দীনের কাছে কৃষক আকছেদ আলীকে বেঁধে রাখা ও নজরুল ইসলামকে মৃত দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম আবেদন করেছে, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলী জানান, ভুলবসত এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সমাধানের জন্য নতুন করে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার হিসেবে তালিকার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে কৃষককে বেঁধে রাখার নির্দেশ দিয়ে অপরাধ করেছে নির্বাচন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে ব্যাখ্য চাওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *